যিলহজের প্রথম দশকের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফযিলত

যিলহজের প্রথম দশকের গুরুত্ব ও আমলসমূহ

কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী গুরুত্ব:

  1. সূরা ফজর (আয়াত ২): আল্লাহ দশ রাতের কসম করেছেন – অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এটি যিলহজের প্রথম দশ রাত।
  2. সূরা হজ (আয়াত ২৮): “নির্দিষ্ট দিনসমূহে” আল্লাহর স্মরণ – ইবনে আব্বাস (রা.) ব্যাখ্যা করেছেন, এটি যিলহজের প্রথম দশ দিন।
  3. হাদীস (সহিহ বুখারি ৯৬৯): এই দশ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়, এমনকি জিহাদের চেয়েও।
  4. আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব: রাসুল (সা.) বলেন, এই দশ দিন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ দিনসমূহ।
  5. ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.): এই দশকে ইসলামের পাঁচ রুকনের প্রতিফলন ঘটে – ঈমান, সালাত, যাকাত, রোযা, হজ ও কুরবানী।

বিশেষ আমল ও করণীয়:

  1. আল্লাহর জিকির: বেশি বেশি “তাকবীর, তাহলীল, তাহমীদ” পাঠ করা।
    আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আলহামদুলিল্লাহ
  2. নেক আমল বৃদ্ধি: সাধারণ ভালো কাজ বেশি করে করা।
  3. গুনাহ থেকে বাঁচা: নিজেকে পাপকাজ থেকে বিরত রাখা।
  4. হজ করা: সামর্থ্য থাকলে হজ আদায় করা – ইসলামের ৫ম রুকন।
  5. কুরবানী করা: সামর্থ্য থাকলে ঈদের দিনে পশু কুরবানী করা।
  6. চুল ও নখ না কাটা: কুরবানী ইচ্ছুক ব্যক্তি ১ যিলহজ থেকে কুরবানীর আগ পর্যন্ত চুল, নখ না কাটা।
  7. তাকবীর তাশরীক: ৯ যিলহজ ফজর থেকে ১৩ যিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতি নামাজের পর
    “আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ” পাঠ করা।
  8. সিয়াম পালন: প্রথম ৯ দিন নফল রোযা রাখা মুস্তাহাব। বিশেষত আরাফার দিন (৯ যিলহজ) রোযা রাখলে আগের ও পরের বছরের ছোট গুনাহ মাফ হয়। [সহিহ মুসলিম, ১১৬২]
  9. ঈদের সুন্নাহ পালন: ১০ যিলহজ ঈদের দিন রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা।

প্রিয় পাঠক


যিলহজের প্রথম দশ দিন ইবাদতের সুবর্ণ সুযোগ। দুর্ভাগ্য যে, অনেকেই ঈবাদাতের এই অফারের কদর করে না। আসুন, অবহেলা না করে প্রতিটি মুহূর্তে ইবাদতে কাটাই। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন — আমিন।

Related Posts