এই প্রথম নিজের উপার্জনের টাকায় বাবা-মাকে নিয়ে হাজ্বে এসেছে।
অনেকদিনের স্বপ্ন ছিল তার- মা কা’বা দেখবেন, বাবা তাওয়াফ করবেন, আর সে দূর থেকে দু’চোখ দিয়ে দেখবে সে দৃশ্য…
মা বলেছিলেন: “যদি একবার কাবা শরীফ দেখার সৌভাগ্য হয়, তবেই জীবন সার্থক মনে করবো।”
আর বাবার মুখে সবসময় শোনা যেত, “যদি আল্লাহর ঘরের মেহমান হতে পারতাম। সিজদায় পড়ে থাকতাম তার দরবারে”
বছরের পর বছর পরিশ্রম করেছে ছেলেটি। অল্প উপার্জন, সীমিত সাধ্য- তবু প্রতি মাসে কিছু টাকা আলাদা করতো সে। আত্মীয়রা হাসতো, বন্ধুরা বলতো, “এখনো তো সময় আছে” পরে চিন্তা করলেও পারো।
কিন্তু সে জানতো, এই কাজটা একদিন করতেই হবে। বাবা-মায়ের শররীরে শক্তি থাকা অবস্থায় একটু সুন্দরভাবে ইবাদাত করবে, নবীজির পদচিহ্ন গুলো ঘুরে ঘুরে দেখবে। বার্ধক্যের কস্ট পাওয়ার আগেই যদি যেতে পারে সে চেস্টা ছিলো তার ।
আজ সেই দিন।
তিনজন মিলে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদুল হারামের সাদা পাথরের মাঝে। চোখের সামনে কাবা শরীফ। মা কেঁদে ফেলেছেন, বাবা চুপচাপ তাকিয়ে আছেন গভীর আবেগ নিয়ে।
ছেলেটি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো-
“হে আল্লাহ, আমার কষ্ট, আমার ভালোবাসা, আমার ত্যাগ – তোমার সন্তুষ্টির জন্যই ছিলো। তুমি কবুল করে নাও।”
তাদের চোখেমুখে একটাই ভাষা- আলহামদুলিল্লাহ!
এই সফর শুধু একটি হজ নয়- এটা ভালোবাসার, ত্যাগের, কৃতজ্ঞতার, আর আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার এক অসাধারণ যাত্রা।
…
এই গল্পটি অনেকেই বয়ে বেড়ান হৃদয়ে, শুধু সাহস আর সংকল্পই তাকে করে তোলে বাস্তব।
আপনার স্বপ্নের হজ যাত্রায় আমরা পাশে আছি।
– হারামাইন টাচ













